Purulia's Pakhi Pahar & Khairabera Dam
Hi, friends I'm Sourav. Touring is my favorite hobby. Photography is my passion and Videography is on my sole.So, I do these from my heart. I write these tour experience in my blog and share with every ones.So, who loves tour, here and there, I request them to read this in your language from my blog. And this is a tour related website. I hope that, I can cover all INDIA tour stories in this blog.
পূর্ববর্তী পর্বের জন্য পাশের লিঙ্ক টি দেখুন
https://travellingsourav.blogspot.com/2020/11/Delhi-DelhiGate-KutubMinar-LotusTemple.html
২৮ শে নভেম্বর – আজ সকাল পৌনে ৫ টা নাগাদ আমাদের বেড টি দেওয়া হল। ৫ঃ৩০ টা নাগাদ আমাদের লাগেজ বাসে তুলে দেওয়ার পর ৬ঃ৩০ টা নাগাদ আমরা বাসে উঠলাম। দিল্লিতে আমাদের হোটেল থেকে Haridwar এর দূরত্ব ছিল ২১০ কিমি। পৌনে নটা নাগাদ আমাদের বাস একটি ধাবার সামনে দাঁড়াল। আমরা কলা, পাউরুটি ও মিষ্টি সহযোগে সকালের টিফিন খেলাম। ১০ঃ৩০ টা নাগাদ আমাদের বাস চলা আবার শুরু হল। দুপুরের খাওয়ার জন্য আমাদের বাস ১ টা নাগাদ আবার থামল। ডাল, ভাত, তরকারী, আলু পোস্ত, ডবল ডিম দিয়ে আমাদের দুপুরের খাওয়া সারা হল। বেলা ২ঃ৩০ টায় আমাদের বাস ছাড়ল। রাস্তায় প্রচুর যানজট থাকার জন্য বাস বেলা ৩ঃ৩০ টা নাগাদ এসে Haridwarএ পৌঁছাল। আমরা যেই হোটেলে উঠলাম তাঁর নাম “ হোটেল অর্জুন”। এটি মনসা পাহাড়ের কাছে অবস্থিত। সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ চাউমিন আমাদের জল খাওয়ার হিসাবে দেওয়া হল। সন্ধ্যা ৬ঃ৪৫ টা নাগাদ আমাদের নিয়ে যাওয়া হল স্থানীয় দোকানে কেনাকাটার জন্য। কেও কেও কেনাকাটা করল, আবার কেও কেও ঘুরে বেরাল। ৮ঃ১৫ টা নাগাদ আমরা আমাদের হোটেলে ফিরে এলাম। রাত ৯ টা নাগাদ আমদের রাতের খাওয়ার দেওয়া হল। আজ পথে পথেই সারাদিন কেটে গেল কোথাও আর ঘোরা হল না।
২৯ শে নভেম্বর – সকাল ৫ঃ৩০ টা নাগাদ আমাদের বেড টি দিয়ে দিন শুরু হল। কিছুক্ষণের মধ্যে তৈরি হয়ে নিলাম সাইট সিনে যাওয়ার জন্য। আজ আমাদের যাওয়ার কথা Rishikesh, লছমনঝুলা, Dehradun, Mussoorie ইত্যাদি জায়গায়। সেই হিসাবে ৭ঃ৩০ টা নাগাদ আমাদের টিফিন দেওয়া হল। আজ যেহেতু পাহাড়ে যাওয়া হবে তাই একটি ছোট বাস ও টাটা সুম ভাড়া নেওয়া হল। আমরা প্রথমে এলাম Rishikeshএ। এখানে আছে ভারতের একমাত্র লক্ষনজী র মন্দির। এই স্থানে লক্ষনজী একপায়ে তপস্যা করে বর প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এখান থেকে বেরিয়ে পাহাড়ি পথ ধরে কিছুটা নিচে নেমে এলাম, একটি দোকানের সামনে। আমাদের যিনি গাইড ছিলেন তিনিই এই দোকান দেখিয়ে দিলেন, এটি সরকার স্বীকৃত একটি রুদ্রাক্ষ ও পাথরের দোকান। এরপর আমরা এলাম লছমনঝুলার ঝুলন্ত ব্রিজের সামনে, নীচ দিয়ে যাচ্ছে স্রোতস্বিনী গঙ্গা, তবে দেখলাম নদীতে চড়া পরে গিয়েছে। এর পর আমরা ব্রিজ পেড়িয়ে অন্য পাড়ে গিয়ে জিপ ধরলাম। জিপ ২ কিমি পথ ৫ টাকায় নিয়ে গিয়ে রামঝুলায় নামিয়ে দিল। রামঝুলায় গিয়ে আমরা একটি মন্দিরে উঠলাম। এই মন্দিরে রাম-লক্ষন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ঠাকুর একটি করে ছিল। এখানে কিছু সময় কাটিয়ে, রামঝুলার ব্রিজ পেড়িয়ে একটি অটো স্ট্যান্ডের কাছে এলাম। অটো আমাদের বাস পর্যন্ত পৌঁছে দিল। এখান থেকে আমরা রওনা হলাম Dehradunর উদ্দেশে। এখানে আমার এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হল, দেরাদুনের পাহাড়ি রাস্তায় বাস আমন ভাবে এঁকেবেঁকে উঠতে লাগল, তাতে ভয়ে আমার গা শিরশির করে উঠল।
আমাদের গাইড পাহাড়ের মাথা থেকে দেখিয়ে দিলেন Dehradunএর খাদ। এরপর বাস একস্থানে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। এখানে শিব, দুর্গা ও দ্রোণের গুহা আছে। কথিত আছে ২০০ বছরের বেশি তপস্যা করে দ্রোন ভগবান শিবের কাছের থেকে একটি বাণ পেয়েছিলেন। শিব তাঁকে বর দিয়েছিলেন, এই বাণ দ্রোণ যেখানে নিক্ষেপ করবেন সেখান থেকেই প্রচুর পরিমান জল বেরবে। একদিন দ্রোণ এখানে এসে সেই বাণ নিক্ষেপ করেন। তারপর থেকেই এই স্থানে বিভিন্ন জায়গা থেকে জল ঝরে পড়তে থাকে। সেই থেকে এই স্থানটির নাম হয় ‘সহস্রধারা’। এই স্থানেই একটু নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে গন্ধক মস্রিত জল পড়ে। এই জলে স্নান করলে বা এক মাস ধরে সেবন করলে যাদের চর্ম রোগ আছে সেটি সেরে যায়। আজকের দুপুরের খাওয়া আমরা এখানেই খেলাম। দুপুরের খাওয়াতে দেওয়া হল দেরাদুন রাইস, ডবল ডিম, তরকারী, চাটনি ইত্যাদি। লছমন ঝুলায় আমাদের দেখানো হল গিতা আশ্রম। এখানেও বিভিন্ন ধরনের ঠাকুরের মূর্তি আমরা দেখতে পেলাম। বেলা ১ঃ৩০ টা নাগাদ আমরা Dehradun থেকে Mussoorieর উদ্দেশে রওনা হলাম। Mussoorieর রাস্তা আরও কঠিন ও চড়াই। এই রাস্তায় যেতে যেতে আমরা দেখলাম একপাশে পাথর কেটে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে গভীর খাদ। উপর থেকে নিচের দিকে তাকালে মাথা ঘোরে, আমার দেখতেও খারাপ লাগে না।
Mussoorieর উচ্চতা প্রায় ৭,০০০ ফুট। Dehradun থেকে মুসৌরি যেতে আমাদের সময় লাগল প্রায় আড়াই ঘণ্টা। আমরা প্রথমে গেলাম কেম্পটি জলপ্রপাত দেখতে, এটি ১৩ কিমি নিচে মুসৌরি শহর থেকে। আমাদের বাস নিচের দিকে নামতে লাগল। মুসৌরি রাস্তা কোথাও ওআন ওয়ে আবার কোথাও টুওয়ে। আমরা বাসের জানলা দিয়ে যখন উপর থেকে নিচের দিকে দেখছিলাম তখন মনে হচ্ছিল কেও যেন পেন্সিল আর তুলি দিয়ে ছবি এঁকে দিয়েছে। ঠিক যেখানে কেম্পটি জলপ্রপাত প্রবাহিত হচ্ছে, তার ঠিক উপরে বাস দাঁড় করিয়ে দিল। গাইড নিচের দিকে আমাদের দেখিয়ে দিলেন জলপ্রপাতটি, দেখলাম বেশ অঝোড় ধারায় সশব্দে উপর থেকে নিচে নেমে চলেছে সে।এবার আমরা জলপ্রপাতটির সামনে এলাম, বেশ কয়েকটি ছবিও তোলা হল। দেখলাম কি প্রচণ্ড বেগে ঝড়ে পড়ছে। এখানে এত ঠাণ্ডা যে হাতের আঙ্গুল গুলো কনকন করতে লাগল। বিকাল ৪ টের সময়তেই মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরতে লাগল। আমার বাবা-মা সহ কয়েক জন বড় রাস্তাতে থেকে গেল। আমি আর কয়েক জন সিঁড়ি দিয়ে একটু উপরে উঠলাম। তবে এখান থেকে জলপ্রপাতের শুরু টা দেখা যায়না। এবার আমরা বাসের কাছে এসে গরম কফি ও টিফিন খেয়ে নিলাম। বিকাল ৫ঃ১৫ নাগাদ আমাদের বাস ছাড়ল। আমদের ড্রাইভার যিনি ছিলেন তিনি যথেস্তই দক্ষ বুঝলাম। এখানকার খাদ দেখার পর সবাই দেখলাম ভয়ে বেশ চুপ করে গেছে। কথা হচ্ছে ঠিকই তবে খুব কম। আমাদের বাস সন্ধ্যার সময় রওনা হওয়ায় চারপাশ হাল্কা কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল, চারপাশটা সুন্দরও দেখাচ্ছিল। তবে এই সময়ের একটি দৃশ্য আমার চোখকে ভীষণ ভাবে টানল। সেটা হচ্ছে পাহাড়ের গায়ে যে বিন্দু বিন্দু আলক কনা সেটি। একদম জোনাকির মত ঝিকমিক করছিল। সুতরাং, এই ভাবে জোনাকির ঝিকমিক দেখতে দেখতে আমরা যে কখন পাহাড় থেকে আড়াই ঘণ্টার সফর শেষ করে ফেললাম, কখন যে Haridwar চলে এলাম খেয়াল করিনি ঠিক। এই রকম রোমাঞ্চকর একটা ঘোড় কাটল জাখন দেখলাম বাসের সবাই কথা বলতে লাগল। দেখলাম হরিদ্বার চলে এসেছি, বাজে তাখন ঠিক ৮ঃ৪৫ টা। হোটেলে লোকেরা রান্না প্রায় সেরেই ফেলেছিল, ৯ঃ৩০ টা নাগাদ খেয়ে নিয়ে সবাই শুয়ে পড়লাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন